১৯৬১ সালের প্রায় ছয় দশকের পুরনো আইনের অবসান ঘটিয়ে Income Tax New Rules-এর অধীনে ১ এপ্রিল, ২০২৬ থেকে পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে নতুন আয়কর আইন, ২০২৫। এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের খসড়া বিধি ইতোমধ্যে প্রকাশ করেছে CBDT। করের হার অপরিবর্তিত থাকলেও, ফাইলিং প্রক্রিয়া, TDS-TCS-এর হার, পুরনো কর ব্যবস্থার পুনরুজ্জীবন এবং বিদেশি সম্পদ ঘোষণার মতো একাধিক খুঁটিনাটি বিষয়ে আমূল পরিবর্তন আনছে কেন্দ্রীয় বোর্ড। করদাতাদের জন্য এই পরিবর্তনগুলি যেমন স্বস্তিদায়ক, তেমনি কিছু ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তাও তৈরি করেছে। সামনের অর্থবর্ষে অপ্রয়োজনীয় জরিমানা এড়াতে এখন থেকেই এই Income Tax New Rules-এর ‘খুঁটিনাটি’ জেনে রাখা আবশ্যক।
বিষয়শ্রেণী: ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে প্রযোজ্য মূল আপডেট
| বিষয় | পুরনো ব্যবস্থা / বর্তমান নিয়ম | Income Tax New Rules-এ কী পরিবর্তন? |
|---|---|---|
| আইন কার্যকরের তারিখ | ১৯৬১ সালের আইন (১৯৬২ থেকে চালু) | ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ‘আয়কর আইন, ২০২৫’ চালু |
| মতামতের শেষ তারিখ | – (খসড়া প্রথমবার প্রকাশ) | ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (সার্বজনীন মতামতের জন্য উন্মুক্ত) |
| আয়কর স্ল্যাব (নতুন ব্যবস্থা) | ৪-৮-১২-১৬-২০-২৪ লাখ (২০২৫-২৬) | কোনো পরিবর্তন নয়। ১২ লাখ পর্যন্ত করমুক্ত সুবিধা বহাল |
| আইটিআর ফাইলিং-এর সময়সীমা | নন-অডিট ক্ষেত্রে ৩১ জুলাই | বাড়ানো হল: ৩১ আগস্ট (ব্যবসায়ীদের জন্য) |
| বিলম্বিত রিটার্ন সংশোধন | ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত | ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ল (নির্দিষ্ট ফি-তে) |
| প্রবীণ নাগরিকদের টিডিএস ছাড় | সুদ আয়: ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত | সীমা দ্বিগুণ: ১,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত টিডিএস কাটা যাবে না |
| HRA ছাড় (পুরনো ব্যবস্থা) | শুধু ৪ মেট্রো শহর (দিল্লি, মুম্বই, চেন্নাই, কলকাতা) | ৪ নতুন শহর: বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, পুণে, আহমেদাবাদ (৫০% ছাড়) |
| চাইল্ড এডুকেশন অ্যালাউন্স | ১০০ টাকা/মাস (প্রতি বাচ্চা) | ৩,০০০ টাকা/মাস (সর্বোচ্চ ২ বাচ্চা) |
| বিদেশি রেমিট্যান্সে টিসিএস (LRS) | শিক্ষা/চিকিৎসা: ৫%, ট্যুর: ২০% | ২% (সমন্বিত হার) – বিপুল স্বস্তি |
| অফিসিয়াল রেফারেন্স | incometaxindia.gov.in (পুরনো পোর্টাল) | খসড়া বিধি: finmin.nic.in (২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মতামত) |
১. Income Tax New Rules-এর অধীনে ২০২৬-২৭ আয়কর স্ল্যাব: কোথায় কত টাকা কর দিতে হবে?
সরকার বারবার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নতুন আইন চালু হওয়ার অর্থ এই নয় যে প্রতিবছর করের হার বাড়বে বা কমবে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য ব্যক্তি করদাতাদের নতুন কর কাঠামোয় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। গত বছর ঘোষিত করমুক্ত আয়ের সীমা ১২ লাখ টাকা (স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশনসহ ১২.৭৫ লাখ) আগের মতোই বহাল থাকছে ।
নতুন কর কাঠামো (ডিফল্ট ব্যবস্থা):
- ০-৪ লাখ টাকা: কর শূন্য।
- ৪-৮ লাখ টাকা: ৫% (করদাতা ২০,০০০ টাকা ছাড় পাবেন রিবেটে)।
- ৮-১২ লাখ টাকা: ১০%।
- ১২-১৬ লাখ টাকা: ১৫%।
- ১৬-২০ লাখ টাকা: ২০%।
- ২০-২৪ লাখ টাকা: ২৫%।
- ২৪ লাখ টাকার বেশি: ৩০%।
পুরনো কর কাঠামো: এই ব্যবস্থা এখনও সক্রিয় রয়েছে। বস্তুত, Income Tax New Rules-এর খসড়ায় পুরনো ব্যবস্থাকে অপ্রত্যাশিত ভাবে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে। HRA-তে নতুন শহর যুক্ত করা এবং শিশু শিক্ষা ভাতার সীমা ৩০ গুণ বাড়ানোর ফলে যাঁদের বাড়িভাড়া ও সন্তানের পড়াশোনার খরচ আছে, তাঁরা পুরনো ব্যবস্থাতেই বেশি কর সাশ্রয় করতে পারবেন ।
২. সরলীকরণের বিপ্লব: Income Tax New Rules-এ ITR ফর্ম ও প্রক্রিয়ায় বড় রদবদল
এতদিন করদাতারা ITR-1 থেকে ITR-7 পর্যন্ত জটিল আলফানিউমেরিক ফর্ম দেখে অভ্যস্ত ছিলেন। ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে Income Tax New Rules কার্যকর হওয়ার পর এই ফর্মগুলির নামকরণ ও গঠন দুটোই বদলে যাচ্ছে ।
কী কী বদলাচ্ছে?
১. ফর্মের নামকরণ: জটিল নামের বদলে ফর্মগুলি এখন ‘সিরিয়াল নম্বর ১ থেকে ১৯০’ দ্বারা চিহ্নিত হবে। মোট নিয়মের সংখ্যা ৫১১ থেকে কমিয়ে ৩৩৩ করা হয়েছে ।
২. স্মার্ট ফর্ম: সমস্ত ফর্মে ‘প্রি-ফিল’ ও ‘অটো-রিকনসিলিয়েশন’ সুবিধা আসছে। ব্যাঙ্ক, ক্যাপিটাল গেইন, ডিভিডেন্ডের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফর্মে জুড়ে যাবে। এতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে ।
৩. সরল ভাষা: ফর্মের ভাষা ও নির্দেশিকা (Notes) এতদিন অত্যন্ত জটিল আইনি শব্দচয়নে ভরা ছিল। নতুন ফর্মে সাধারণ বাংলা ও হিন্দির মতো আঞ্চলিক ভাষায় ইঙ্গিত দেওয়ারও বিধান রাখা হয়েছে, যা সাধারণ বেতনভুকের বোধগম্য হবে ।
বাস্তব উদাহরণ: ধরা যাক, আপনি একজন চাকরিজীবী। প্রতি বছর ফর্ম ১৬ থেকে তথ্য নিয়ে ম্যানুয়ালি ITR ফিলাপ করতে গিয়ে হিসাব মেলানো কষ্টকর ছিল। এখন ফর্মের ‘প্রি-ফিল’ অপশন চাপলেই আপনার AIS-এর ভিত্তিতে সমস্ত আয় ও কর কাটার তথ্য চলে আসবে। আপনাকে শুধু ভেরিফাই করে সাবমিট করতে হবে।
৩. TDS ও TCS-এ বড় স্বস্তি: Income Tax New Rules-এ কমল কর, বাড়ল সীমা
অপ্রত্যক্ষ করের বোঝা কমাতে ও সাধারণ মানুষের হাতে নগদ টাকা রাখতে Income Tax New Rules-এ TDS (উৎসে কর কর্তন) ও TCS (উৎসে কর আদায়)-এর একাধিক বিধি যুক্তিযুক্ত ও মানবিক করা হয়েছে ।
উল্লেখযোগ্য TDS/TCS সংশোধনী:
- বিদেশি রেমিট্যান্স (LRS): শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য ৫% TCS কমিয়ে ২% করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো, ওভারসিজ ট্যুর প্যাকেজের ক্ষেত্রে ২০% হারের বদলে এখন থেকে মাত্র ২% TCS দিলেই চলবে ।
- প্রবীণ নাগরিক: ব্যাঙ্কের সুদ আয়ের ওপর TDS কাটার সীমা ৫০,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,০০,০০০ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ বার্ষিক ১ লাখ টাকা সুদ আয় পর্যন্ত ব্যাঙ্ক আপনার টাকা আটকে রাখবে না বা TDS কাটবে না ।
- মোটর ভেহিকল ক্লেম: গাড়ি দুর্ঘটনায় ট্রাইব্যুনাল থেকে পাওয়া ক্ষতিপূরণের সুদের উপর আর TDS কাটা যাবে না। এটি সম্পূর্ণ করমুক্ত ।
- অস্থাবর সম্পত্তি ক্রয়: প্রবাসী ভারতীয় (NRI)-এর কাছ থেকে বাড়ি কিনলে ক্রেতাকে আর TAN নিতে হবে না। ক্রেতা নিজের PAN দিয়ে ট্যাক্স ডিডাক্ট করে জমা দিতে পারবেন ।
৪. পুরনো কর ব্যবস্থার পুনর্বাসন: Income Tax New Rules কেন প্রবীণ কর ব্যবস্থাকে ফের প্রাসঙ্গিক করল?
গত কয়েক বছর ধরে সরকার নতুন কর ব্যবস্থাকেই ‘ডিফল্ট’ এবং আকর্ষণীয় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু Income Tax New Rules-এর ড্রাফট প্রকাশিত হতেই বিশেষজ্ঞ মহলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে: পুরনো কর ব্যবস্থা এখনও শেষ হয়ে যায়নি, বরং আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরছে ।
কীভাবে পুরনো ব্যবস্থা ফিরছে?
১. HRA-তে নতুন শহর: এতদিন কেবল দিল্লি, মুম্বই, চেন্নাই ও কলকাতায় ৫০% HRA ছাড় মিলত। নতুন নিয়মে বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, পুণে ও আহমেদাবাদ-কে এই তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। এই শহরগুলিতে বাড়িভাড়া নিয়ে থাকা চাকরিজীবীরা এখন পুরনো ব্যবস্থায় বিপুল কর সাশ্রয় করতে পারবেন ।
২. মুদ্রাস্ফীতি সামঞ্জস্য: ১৯৯৮ সাল থেকে শিশু শিক্ষা ভাতা ছিল ১০০ টাকা প্রতি মাসে, যা বর্তমান অর্থনীতিতে অর্থহীন ছিল। নতুন খসড়ায় এই সীমা বাড়িয়ে ৩,০০০ টাকা প্রতি মাসে করা হয়েছে (সর্বোচ্চ ২ সন্তান)। হোস্টেল ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯,০০০ টাকা করা হয়েছে ।
৩. কর্মচারী ঋণ: কোম্পানির কাছ থেকে নেওয়া ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ এখন পার্কুইজিট হিসেবে গণ্য হবে না (পূর্বসীমা ছিল মাত্র ২০,০০০ টাকা) ।
বিশ্লেষণ: এর অর্থ দাঁড়ায়, যাঁদের বাড়িভাড়া, সন্তানের পড়াশোনার খরচ, বা কোম্পানির ঋণের সুবিধা আছে, তাঁদের জন্য পুরনো ব্যবস্থাই অধিক লাভজনক হয়ে উঠতে পারে। তাই Income Tax New Rules-এ করদাতাকে আগের চেয়ে আরও সতর্কভাবে নির্বাচন করতে হবে।
৫. কর্পোরেট কর ও বিনিয়োগকারীদের জন্য Income Tax New Rules-এর প্রভাব
শুধু ব্যক্তি করদাতা নন, কোম্পানি ও শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্যও নতুন বিধিতে বড় বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে ।
ম্যাট (MAT): কোম্পানিগুলির ন্যূনতম বিকল্প করের হার ১৫% থেকে কমিয়ে ১৪% করা হয়েছে। তবে ১ এপ্রিল ২০২৬-এর পরে কোনও নতুন MAT ক্রেডিট জমা হবে না। অর্থাৎ MAT এখন ‘ফাইনাল ট্যাক্স’-এ পরিণত হল। পুরোনো MAT ক্রেডিট কেবল নতুন কর ব্যবস্থাতেই ব্যবহার করা যাবে, তাও আয়কর দায়ের সর্বোচ্চ ২৫% পর্যন্ত ।
শেয়ার বাইব্যাক: এখন থেকে কোম্পানি নিজের শেয়ার কিনে নেওয়ার অর্থ (Buy-back) আর ‘লভ্যাংশ’ হিসেবে গণ্য হবে না। এটি ‘মূলধনী লাভ’ হিসেবে ধরা হবে। ফলে প্রোমোটারদের এই আয়ের ওপর নিজ নিজ স্ল্যাব অনুযায়ী কর দিতে হবে ।
সিকিউরিটিজ ট্রানজ্যাকশন ট্যাক্স (STT): ফিউচার ও অপশন ট্রেডিং-এ STT বাড়ানো হয়েছে। ফিউচারে ০.০২% থেকে ০.০৫% এবং অপশনে ০.১% থেকে ০.১৫% করা হয়েছে। এটি বাজেট ২০২৬-এর একটি প্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত ছিল ।
৬. জরিমানা ও অপরাধীকরণ: Income Tax New Rules-এ কঠোরতার বদলে ‘ফি’র সংস্কৃতি
আয়কর ফাঁকি দেওয়া বা নিয়ম না মানার শাস্তি আগে যেখানে ফৌজদারি অপরাধের আওতাভুক্ত ছিল, Income Tax New Rules-এ সেটিকে অনেকাংশে ‘ডি-ক্রিমিনালাইজ’ বা অ-অপরাধী করা হয়েছে ।
- ছোটখাটো ফাঁকি: ১০ শতাংশ জরিমানা দিলেই রেহাই মিলবে, জেল নয় ।
- বিলম্বিত রিটার্ন সংশোধন: ৩১ ডিসেম্বরের পর ৩১ মার্চের মধ্যে রিটার্ন সংশোধন করতে চাইলে, ৫ লাখ টাকা আয় পর্যন্ত ১,০০০ টাকা এবং ৫ লাখের বেশি আয়ে ৫,০০০ টাকা ফি দিলেই চলবে ।
- বিদেশি সম্পদ ঘোষণা: ছোট আয়ের করদাতা, শিক্ষার্থী বা ফিরতি NRI-দের জন্য ‘ফরেন অ্যাসেট ফাস্ট-ডিএস ২০২৬’ নামে এককালীন স্বচ্ছতা ঘোষণার সুযোগ আনা হয়েছে। ২০ লাখ টাকার কম মূল্যের অঘোষিত বিদেশি সম্পদের জন্য ব্ল্যাক মানি অ্যাক্টের অধীনে ফৌজদারি মামলার ভীতি নেই ।
৭. ডিজিটাল ইন্ডিয়া ও বৈশ্বিক কর: Income Tax New Rules-এ প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক করের ভবিষ্যৎ
Income Tax New Rules শুধু পুরোনো আইনের সংশোধন নয়, এটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল-ফার্স্ট কর ব্যবস্থা।
- ডিজিটাল রুপি: বিধি অনুযায়ী, প্রেসক্রাইবড পেমেন্টের ক্ষেত্রে এখন ডিজিটাল রুপি (CBDC)-কে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে ।
- ই-সার্টিফিকেট: কম হারে বা শূন্য হারে TDS কাটার সার্টিফিকেটের জন্য এখন ইলেকট্রনিক অ্যাপ্লিকেশন ও ইস্যু ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। এতে সময় ও জটিলতা দুটোই কমবে ।
- বিদেশি কর ছাড়: আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সেবাদাতা সংস্থাগুলির জন্য সেফ হারবার মার্জিন ১৫.৫% ধার্য করা হয়েছে। আয় সীমা ৩০০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ২,০০০ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে ।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১: আমি যদি ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৬-এর মধ্যে রিটার্ন ফাইল করতে ভুলে যাই, তাহলে কি Income Tax New Rules-এ সুযোগ পাব?
উত্তর: হ্যাঁ, পাবেন। নতুন নিয়মে বিলম্বিত রিটার্ন ফাইলিং ও সংশোধনের সময়সীমা ৩১ মার্চ, ২০২৭ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে ৩১ ডিসেম্বরের পর ফাইল করলে প্রযোজ্য ফি (১,০০০ টাকা বা ৫,০০০ টাকা) দিতে হবে ।
প্রশ্ন ২: আমার বার্ষিক আয় ৯ লাখ টাকা। আমি কি এখনও পুরনো কর ব্যবস্থা বেছে নিতে পারব?
উত্তর: অবশ্যই। Income Tax New Rules-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে, ব্যবসায়িক আয় না থাকলে করদাতা প্রতি বছর পুরনো ও নতুন ব্যবস্থার মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে পারবেন। বিশেষ করে HRA ও শিক্ষা ভাতার নতুন সীমা পুরনো ব্যবস্থাকে লাভজনক করে তুলেছে ।
প্রশ্ন ৩: প্রবীণ নাগরিক হিসেবে আমার FD-র সুদ ১.২ লাখ টাকা। এখন TDS কত কাটা হবে?
উত্তর: এক লাখ টাকা পর্যন্ত TDS-ছাড়ের সীমা বাড়ানোয় আপনার ১ লাখ টাকা পর্যন্ত কোনো কর কাটা যাবে না। বাকি ২০,০০০ টাকার উপর স্বাভাবিক নিয়মে TDS কাটা যেতে পারে, যদি না আপনি ফর্ম ১৫H জমা দিয়ে থাকেন ।
প্রশ্ন ৪: নতুন ITR ফর্মের নম্বর কীভাবে চিনব?
উত্তর: ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে আলফানিউমেরিক কোড (যেমন ITR-1, ITR-2) তুলে দেওয়া হচ্ছে। ফর্মগুলি সিরিয়াল নম্বর ১ থেকে ১৯০ পর্যন্ত হবে। করদাতার আয়ের উৎস ও প্রকৃতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সিরিয়াল নম্বরের ফর্ম নির্ধারিত হবে। ফর্ম জমা দেওয়ার আগে পোর্টালের নির্দেশিকা পড়ে নেওয়া আবশ্যক ।
সংক্ষিপ্তসার: ১ এপ্রিল ২০২৬ শুধু একটি তারিখ নয়, ভারতীয় কর ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা। Income Tax New Rules করদাতার অভিজ্ঞতাকে ‘জটিল আইন’ থেকে ‘সরল প্রযুক্তি’তে রূপান্তরিত করছে। তবে এই সরলতার মাঝে ফাঁদও আছে—পুরনো ব্যবস্থা আবারও আকর্ষণীয় হওয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়া আগের চেয়ে কঠিন হয়েছে। সময় থাকতে নিজের আয়ের উৎস, খরচ ও বিনিয়োগের ধরণ বুঝে এখনই ঠিক করুন, কোন পথে এগোবেন। মতামতের জানালা ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খোলা, প্রয়োজনে আপনার মতামত জানাতেও দ্বিধা করবেন না।

1 Comment
Pingback: Swasthya Sathi New Update 2026: রাজ্যে স্বাস্থ্যসেবায় বড়সড় বদল—নতুন আপডেটে কার কার সুবিধা কমতে পারে, আর কার মিলব